The news is by your side.

জ্বলন্ত আগুনে হাঁটা ও বাঁশ পদ্মায় ধৌত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মুন্সিগঞ্জে মাদার বাঁশ উৎসব

0

আতিকুর রহমান টিপু

জ্বলন্ত আগুনে হেঁটে এবং পদ্মায় সাতটি মাদার বাঁশ ধৌত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সাত দিনব্যাপী মাদার বাঁশ ধামাল উৎসব। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই গ্রামে শুরু হয় মাদার বাঁশ উৎসব। প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো মাদার বাঁশ উৎসব শুরুর প্রথম দিনেই সাতটি বাঁশ নিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পাঁচটি লাল, একটি সাদা ও একটি হলুদ বাঁশ দিয়ে শুরু হয় উৎসবের। শেষ হয় জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। প্রত্যেকটি বাঁশের মাথায় গামছা বাঁধা হয় এবং দেওয়া হয় চুল সহ আরো কিছু সামগ্রী।

এরপর প্রথম দিন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাদ্যের তালে তালে বাঁশ নিয়ে নিত্য করে ঘুরতে ঘুরতে সাতটি বাঁশ প্রদর্শন করা হয়। অসংখ্য দর্শক তা মনোমুগ্ধভাবে উপভোগ করে। সাতটি বাঁশ সাতদিন পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নানা অঞ্চল ঘুরে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ফিরে আসে শিলই গ্রামে। এসব বাঁশ বহনকারীদের স্বাগত জানানো হয় নানা আয়োজনের মাধ্যমে। এর আগে আধারা ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি ও চৈতারচর হয়ে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চর ডুমুরিয়া, কংসুপুরা,আনন্দপুর সহ নানা গ্রামে ঘুরে সাত দিন কাটিয়ে শেষ দিনে ফেরত আসে দেওয়ান কান্দিতে। সেখান থেকেই রাত ১২টা ১ মিনিটে মাদার বাঁশ দলটি ফিরে আসে শিলই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের মাজার এর সামনে। রাত ১২টা ১ মিনিটে দলটি ফিরে আসলে প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ধুপ পুড়িয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেইসাথে বাঁশগুলো একটি উঁচু মাঁচাতে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। সারারাত ধরে চলে মাজার ও তার আশপাশ এলাকায় গান। মেলাও বসে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে। বাদ্যের তালে তালে রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের মাজারে পুরুষ ও মহিলারা নিমগ্ন হয়ে পড়ে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাজনার ফের নিমগ্ন হন। এরপরে ছোট শিশুদের মাথার চুল ছোট করে দেওয়া হয়। এসব শিশুদের বাবা মা মাজারে মানত করে শিশুদের চুল কাটেন বলে জানা যায়।

ভোর পাঁচটার দিকে ২১টি লাকড়ি দিয়ে এবং পাট খড়ির মাধ্যমে সাতবার তার চারপাশে ঘুরে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই আগুনের ওপর ভক্তরা হেঁটে তা নিভিয়ে দেয়। তারা সকালে মাদার বাঁশ পদ্মায় নিয়ে ধুয়ে তা বাসায় ফেরত নিয়ে আসে। তবে রাত ৩টার দিকে শিরনি পোড়ানো হয়েছে। তা ভক্তরা তাদের মনোবাঞ্চনা পুরনের জন্য সংগ্রহ করেছে। তা তারা খাবে ভক্তি নিয়ে।

মাদার বাঁশ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ১শ’ ৭০ বৎসর পূর্বে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এর শানাল ফকিরের নামে এক সাধক এই দর্শনের গুরু। তার কাছ থেকেই শিমুলিয়ার ভোদাই ফকির এর দায়িত্ব পান। তিনি গত হলে তোরাব আলী ফকির দায়িত্বশীল নিযুক্ত হন। এরপর দায়িত্ব পান মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের রিয়াজ উদ্দিন ফকির। তিনি গত হলে তার স্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তার নাতি সানাল মৃধা। যিনি জুনিয়র শানাল ফকির হিসেবে পরিচিত।

অনেকের ধারণা যারা সাতদিন বাঁশ নিয়ে কষ্ট করেন তারা মাছ খেতে পারবে না। এসময় মাছ ভাত খেলে তাদের ক্ষতি হবে। তাই তারা এ সাতদিন মাছ ভাত এড়িয়ে চলেন। মাদার বাঁশ উৎসব শেষ হলে তারা মাছ ভাত খেয়ে স্বাভাবিক হন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.