The news is by your side.

হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন শিক্ষা মক্তব

0

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কালের বিবর্তনে মুন্সীগঞ্জ জেলায় হারিয়ে যাচ্ছে পবিত্র কোরআন শিক্ষার মক্তব। অনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনগুলোর কারণে শিশুরা কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগের মত এখন আর শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। আলিফ, বা, তা শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেনা জনপদ। শিশুদের কোরআন শিক্ষা এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক মৌলিক জ্ঞান অর্জনের উত্তম শিক্ষা কেন্দ্র হলো মক্তব। এখান থেকেই শিশুরা কোরআন তেলাওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ, বিভন্ন মাসলা মাসায়েল এবং কালিমা শিখত। বর্তমানে অভিভাবকদের অবহেলার ফলে শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ হচ্ছে কোনআন শিক্ষার মক্তব।

জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অফিসের দেয়া তথ্য মতে, মুন্সীগঞ্জ জেলায় মোট ৩ হাজার ৩২২টি মসজিদ রয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৭২৭টি, টঙ্গিবাড়ীতে ৪৪৬, লৌহজংয়ে ৩৭৯, সিরাজদিখানে ৬৬৩, শ্রীনগরে ৫৯৫টি এবং গজারিয়ায় ৫১২টি। বর্তমানে ২ হাজার ৫০৮টি মসজিদে নামে মাত্র মক্তব আছে। কিন্তু সেখানে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ৮১৪টি মসজিদে করোনাকালীন সময়ে মক্তব ছিলো। এখন তা প্রায়ই বন্ধ। মক্তবের শিক্ষকদেরকে প্রধানমন্ত্রীর মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প হতে প্রতি ইমামকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে  সম্মানী দেয়া হচ্ছে এখনো।

জানা গেছে, জেলার প্রতিটা মসজিদেই প্রাক প্রাথমিক, নূরানী, বয়স্ক পুরুষ এবং বয়স্ক নারী এই চারটি বিভাগে মক্তবগুলোতে চালু আছে। প্রত্যেকটি গ্রাম-গঞ্জেও মক্তব আছে। কিন্তু অধিকাংশ মক্তবে কোন শিশুরা যাচ্ছে না কোরআন শেখার জন্য। প্রতিদিন সকালে মসজিদের ইমাম মসজিদের মাইক দিয়ে বাচ্চাদের ডেকে নিয়ে যায় মক্তবে। আবার কোন কোন এলাকায় ইমাম মাইক দিয়ে কক্তব আসার জন্য ডাকলেও অভিভাবকদের অবহেলায় শিশুরা কোরআন শিক্ষা নিতে যাচ্ছে।

একাধিক ইমাম ও মোয়াজ্জেমের সাথে মক্তব বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের অযুহাত দেখিয়ে অভিভাবকরা শিশুদেরকে মক্তবে পাঠাতে চায় না। ভোর সকালে নয়, শিশুরা তাদের সময় অনুযায়ী কোরআন শিখতে পারে। বয়স্ক নারী পুরুষরাও তাদের সুবিধামত সময়ে শিখতে পারে। মক্তবে ৩-৪ বছরের শিশুরা আসলেও ৪-৫ বছরের শিশুরা এখন কিন্ডারগার্টেন মুখী। অভিভাবকরা আধুনিক শিক্ষার নামে শিশুদেরকে সকালে ঘুম ভাঙ্গিয়ে টেনে হিচড়ে কিন্ডারগার্টেনে নিয়ে যায়। বাচ্চাদের মধ্যে ইসলাম শিক্ষার আলো না থাকলে এই সন্তানের জন্য পিতামাতাকে পরকালে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে । এই কথাটি যদি অভিভাকরা বুঝতো বা মেনে চলতো তাহলে ইসলামের আলোকে বাচ্চাদের কোরআন শিক্ষা দিতো।

একাধিক সচেতন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, কিন্ডারগার্টেনগুলোতে আধুনিক শিক্ষার নামে শিশুদেরকে কোরআন শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ছোটবেলায় আমরা সকাল বেলা মক্তবে কোরআন শিক্ষা নিয়ে তারপর স্কুলে গিয়েছি। এখনকার সময়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ভোর ৭ টা থেকে শুরু করে। আধুনিক শিক্ষার নামের ওইসব কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বাচ্চারা চোখে ঘুম নিয়েই চলে যায়। অনেকক্ষেত্রে অভিভাবকদের কারণেই কোরআন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। তারা আরো বলেন, এখনকার ছেলে মেয়েরা আদব-কায়দা এবং আখলাক শিখতে পারছেনা। ফলে বড় হয়ে তারা আর মুরব্বিদের সম্মান দিতে চায় না।

জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, প্রাক প্রাথমিক, নূরানী, বয়স্ক পুরুষ এবং বয়স্ক নারী এই চারটি বিভাগে মক্তবগুলোতে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। করোনাকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত মক্তবগুলো বন্ধ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সীমিত আকারে মকতবগুলো চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.