The news is by your side.

টার্কি মুরগিতে ভাগ্য পরিবর্তন সোহাগের

0

কায়সার সামির

কয়েকদিন আগেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে চাকরির বাজার ততটা উন্নত নয়। হাজারো তরুন মাস্টার ডিগ্রি করেও চাকরির আশায় ঘুরছে মাসের-পর-মাস। চাকরি না পেয়ে অনেকেই হতাশায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে ফেলছে নিজেকে। চাকরির পিছনে না ছুটে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে বিদেশী জাতের মুরগি টার্কি পালন। তাতেই ভাগ্য পরিবর্তন হয় মুন্সীগঞ্জ শহরের ৬নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামের শিক্ষিত যুবক সোহাগ হোসেনের। সে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেক মাস্টার্স পাস করেছে।

এই তো বছর খানেক আগের কথা। মাত্র ৬ হাজার টাকায় ২টি টার্কি মুরগি দিয়ে শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমে আর বছরের ব্যবধানে তার খামারের এখন টার্কির সংখ্যা ২ শতাধিক। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৭ লাখ টাকা। সোহাগের খামারের টার্কির পাশাপাশি ডিম ও বাচ্চা পাওয়া যায়। সুস্বাদু এ মুরগির মাংস, ডিম ও বাচ্চা কিনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে। এক জোড়া টার্কি বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। বছরে প্রায় ২৩০ টার বেশি ডিম দেয় এক একটি টার্কি মুরগি। প্রতিটা টার্কি ৭ থেকে ৯ কেজি হয়। সাধারণ মুরগির মাংসের মতো করেই টার্কি রান্না করা যায়। খেতেও খুব সুস্বাদু।

সোহাগকে অনুসরণ করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক ছোট ছোট টার্কি মুরগির খামার। একই ওয়ার্ড কাটাখালী, রনছ, হাওলাপাড়া, পারুল পাড়ায় শুরু হয়েছে টার্কি পালন।

এই সফল উদ্যোক্তা সোহাগ হোসেন বলেন, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে না ছুটে কোচিং সেন্টার পরিচালনার পাশাপাশি ৬ হাজার টাকা দিয়ে টার্কি পালন শুরু করেছি। যাত্রা ছিলো ২টি টার্কি দিয়ে। বছর শেষ না হতেই এখন ২০০টি টার্কি রয়েছে। ২ লাখ টাকা খরচ করে এখন পুঁজি হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

তিনি শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকরির পিছনে না ছুটে স্বল্প পুঁজি আর নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে টার্কি পালন করা যায়। এছাড়া অল্প পুঁজিতে হাঁস-মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। নিজে আত্মনির্ভরশীল হলে পরিবার তথা দেশ আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পাবে।

সোহাগের টার্কি মুরগি পালন বেকারত্ব ঘোচাতে এলাকাবাসীর কাছে এখন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.