মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অনিয়ম,দুর্ভোগ আর হয়রানী বন্ধ হবে কবে?

আতিকুর রহমান টিপু, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা আউটডোরে পড়েন দালালের খপ্পরে । আর ইনডোরে ভর্তি থাকা রোগীরা লড়াই করছেন তেলাপোঁকা- ছাড়পোঁকা সাথে। এছাড়াও যেখানে সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও খাবারে উচ্ছিষ্ট থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ট রোগীরা।
জেলা সদরের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে আসা শত শত মানুষ
নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি দালালের খপ্পরে চরে হচ্ছেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সেবা নিতে আসা মানুষগুলোকে কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রেসক্রিপশন হাতে পাওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে হয়রানি, ভোগান্তি আর বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে রোগী দেখার কথা থাকলেও অধিকাংশ চিকিৎসব রুমে আসেন সাড়ে ১০ টার পর। আবার অনেক রুমে রোগীরা দীর্ঘ লাইনে থাকলেও চিকিৎসকরা মিটিংয়ের অযুহাত দিয়ে বেরিয়ে যান। তখন রোগীরাও লাইনে দাঁড়িয়ে অসহনীয় কষ্টে পড়েন।।আর তীর্থের কাকাের মত অপেক্ষায় থাকেন কখনও আসবে চিকিৎসক । চিকিৎসকদের সেবা পেতে অনেক সময় নিতে হয় দালালদের সহযোগিতা। আর এসব দালালরা সব সময় অবস্থান করেন চিকিৎসকের রুমে এবং রুমের বাইরে। তারা একজন রোগী রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই পরীক্ষা- নিরিক্ষা করানোর জন্য বাহিরের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। অনেক সময় রোগীরা দালালদের টানাটানির তোপে পড়ে দিশেহারা হন। তাছাড়া হাসপাতাল জুড়ে চষে বেড়ানো নারী ও পুরুষ দালালরাও রোগীদের টিকেট নিয়ে চিকিৎসকের নিযুক্ত লোক পরিচয়ে রোগীকে ফুসলিয়ে বাহিরে নিয়ে যায়। এসব দালালদের চিকিৎসকরাই পোষেন রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বারে নিয়ে যেতে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসরা রোগী নয় অধিকাংশ সময় ক্লিনিকের লোকজন এনে রোগীর কাছ থেকে ব্লাড সংগ্রহ করে নিয়ে যান পরীক্ষা করতে। হাসপালটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের অন্তত দেড় শতাধিক দালাল পুরো হাসপাতাল চষে বেড়ান। অধিকাংশ পরিক্ষা-নিরিক্ষা হাসপাতালে হলেও নানা কৌশলে রোগীদের ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে দালাল চক্র। আউটডোর ও ইনডোরে আসা অনেক রোগী হাসপাতালে করতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ রোগী দালাল ও কমিশন লোভী চিকিৎসকদর কারণে বাহিরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে রোগীরা আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের বহিঃবিভাগে এবং ওয়ার্ডগুলোতে থাকা রোগীদের দামি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি হচ্ছে। দৈনিক গড়ে ১৫/২০ টি মোবাইল চুরি হয়। এই চুরির ঘটনায় ছদ্মবেশী বোরখা পড়া চোর ও ওয়ার্ডে থাকা কিছু ওয়ার্ড বয়রাও জড়িত আছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।

অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনদেরও অভিযোগের কমতি নেই। হাসপাতালের যেখানে সেখানে ড্রাম ভর্তি ময়লার স্তুপ, প্রতিটা বেডে ছাড়পোঁকা- তেলাপোঁকার উৎপাতে রোগীরা ঘুমাতে পারেনা। ইনডোরে ভর্তি রোগী এবং আউটডোরে আসা রোগীদের নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি হচ্ছে নিয়মিত। রোগী পরিবহনে হুইল চেয়ার সংকটে হাসপাতালের ইমার্জেন্সী রুম এবং নিচতলার ওয়ার্ডে অটো- মিশুক, ভ্যান চলাচল বেড়ে যায়। অনেক সময় রোগীর লোকজনও অটো- মিশুক নিয়ে ঢুকে পড়েন হাসপাতালে।এছাড়াও কুকুর, বিড়াল আর ছাগল সহ অন্যান্য পশুদের উৎপাদ তো আছেই।

সম্প্রতি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন নব নির্বাচিত এমপি । পাশাপাশি হাসপাতালটির দূরবস্থার চিত্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু তাতেও হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা ও দালাল চক্রের উৎপাত বন্ধ হয়নি। শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ২/৩ দিন গ্রাম পুলিশের সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এখন আর তাদের দেখা যাচ্ছে না। ফলে সেই আগেরই মতো হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। শত শত দালাল হাসপাতালে চষে বেড়ানো, রোগী টেনে হিঁচরে নেয়ার কাজটি করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দালাল নির্মূলে অভিযান পরিচালনা করছে না প্রশাসন।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি,চিকিৎসাসেবায় মান সম্মত পরিবেশ সৃষ্টি আর দালাল নির্মূল না করলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা। পাশাপাশি অসাধু চিকিৎসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *